প্রকাশিত: ২৫/১০/২০১৪ ১২:১২ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ইয়াবা বাণিজ্যের অভিযোগ

index
মুহাম্মদ হানিফ আজাদ::
উখিয়ার থাইংখালী শাহপরীরদ্বীপ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ১২ হাজার ইয়াবা ও নগদ ৩লাখ টাকা ইয়াবা ব্যবসায়ীর নিকট থেকে ছিনতাই করে গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে। থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তারা সাদা পোশাকে দিবারাত্রি গাড়ী তল্লাশি করে নিরীহ লোকজনদের থানায় নিয়ে গিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করে থাকে। আর চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আটকের পরেও বাণিজ্য করে থাকে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। যার ফলে ইয়াবা পাচার অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থাইংখালী ষ্টেশন থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে ষ্টেশনের ছৈয়দ আলমের সওদাগরের দোকান থেকে থাইংখালী ফাঁড়ি পুলিশ সদস্যরা এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। ওখানে দীর্ঘক্ষণ দেন দরবার করে ওই ইয়াবা ব্যবসায়ীর ব্যাগে তল্লাশী চালিয়ে ১২হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ওই ইয়াবা কোথাও জমা না দিয়ে পুলিশ আত্মসাৎ করে। এর প্রতিবাদে পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী ষ্টেশনে স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ মিছিলও করেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী থাইংখালী ষ্টেশনের ব্যবসায়ী কাদের হোসেনের ছেলে শাহাব উদ্দিন জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় অজ্ঞাত এক যুবক তার দোকান থেকে ১৫৫টাকা দিয়ে ৩ প্যাকেট বিস্কুট ক্রয় করে। ওই যুবক ১হাজার টাকা নোট দিলে বাকী টাকা ফেরত না নিয়ে চলে গেলে তার সন্দেহ হয়। স্থানীয় গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের আব্দুর রহমান জানান, তার সাথে বসা চায়ের দোকানে এক যুবককে একটি ব্যাগ সহ থাইংখালী পুলিশ ধরে নিয়ে তল্লাশী করতে দেখেছি। এ ঘটনার কথা স্বীকার করে স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, থাইংখালী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা অপরাধীদের সাথে আতাঁত করে নিরীহ লোকজনদেরকে হয়রানী করে থাকে। ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে ইয়াবা ছিনতাই ও টাকা লুটপাটের কথা তিনি উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফাঁড়ি পুলিশ শুধু ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। তারা জনগণের কোন কাজে আসছেনা। তাই এসব পুলিশকে প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। এরা পুলিশ নামে চাঁদাবাজ। এসব ব্যাপারে থাইংখালী ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ আব্দু ছামাদ এর বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগের কথা তিনি অস্বীকার করেন। তবে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, থাইংখালী পুলিশের বিরুদ্ধে এক ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। শিঘ্রই এব্যাপারে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে সাংবাদিকদের আশ্বস্থ করেন।

এদিকে সম্প্রতি উখিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক কাউচার আহমদ উখিয়ার ঘাট গ্রামের সোনা আলীর ছেলে নুরুল আবছারকে ১হাজার পিস ইয়াবা সহ কুতুপালং ক্যাম্প বাজার থেকে আটক করার পর ১ লাখ টাকা বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই কাউচার আহমদ বলেন, ইয়াবা পাচারকারীকে আটক করেনি, তবে একটি মাইক্রোবাস থানায় নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কুতুপালং গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও উখিয়া উপজেলা মৎস্যলীগের সভাপতি বখতিয়ার আহমদ বলেন, সোনা আলীর ছেলেকে উখিয়া থানা পুলিশ সন্দেহ জনক ভাবে আটক করে থানা নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। উখিয়া থানার ওসি অংসা থোয়াই বলেন, ইয়াবা পাচারে কোন পুলিশ কর্মকর্তা জড়িত থাকার সঠিক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

পলাশ বড়ুয়া:: কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ভাষা দিবসের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা ...